Advertisement

মহাত্মা ও বাজ পাখির গল্প 💞💞



একবার একটি মহাত্মা গ্রামের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন।আর তিনি দেখেন একটি বাড়ির উঠানে এক লোক খাটে শুয়ে আছে।আর সামনেই মুরগির কিছু বাচ্চা চালের দানা খাচ্ছে।মহাত্মা এটা দেখে অবাক হয় মুরগির ঐ বাচ্চাগুলোর মাঝে একটি বাজ পাখির বাচ্চাও আছে।আর সে ঐ মুরগির বাচ্চাগুলোর মত চালের দানা খাচ্ছে।এটা দেখে মহাত্মা শুয়ে থাকা ঐ লোকটিকে জিজ্ঞেস করে যে 
"এমন কি করে হল?
যে বাজ পাখির বাচ্চা আকাশে উড়ার কথা ছিল সে মুরগির বাচ্চার সাথে খেলা করছে..??"
জবাবে লোকটি বলে,
"যখন এই পাখিটির জন্ম হয় তখন আমি একে ধরে নিয়ে এসে মুরগির বাচ্চার সাথে রেখে দেয়।আর এখন ও নিজেকে একটি মুরগির বাচ্চাই মনে করে তায় ওদের মত সেও চাল ই খায়।"

এটা শোনার পর মহাত্মার ভালো লাগেনি।পাখিটির জন্য তার কষ্ট হয়।তখন মহাত্মা ঐ লোকটিকে বলে
"একটা কাজ করুন, এই বাজ পাখির বাচ্চাটি আমাকে দিয়ে দিন।তার জন্য আপনি যে মুল্য চান আমি দিতে রাজি আছি।"

এরপর লোকটি রাজি হয়ে যায় আর মহাত্মাকে পাখিটি দিয়ে দেয়।তারপর মহাত্মা বাচ্চাটি নিয়ে বাড়ি চলে আসে।এর পর থেকে মহাত্মা রোজ সকাল বিকেল ঐ বাচ্চাটিকে এটা বুঝানোর চেষ্টা করে যে তুই একটি বাজ পাখির বাচ্চা..!! নিজেকে চেনার চেষ্টা কর..!! তোর আসল ঠিকানা পাহাড়ে।কিন্তু তার পরেও বাচ্চাটি নিজেকে মুরগিই ভাবে।কিছুদিন এইভাবে চলে যায়।কিন্তু মহাত্মা যখন দেখে এতবার একে বোঝানোর পরেও সে নিজেকে বুঝতে চাইছে না তখন একদিন ঐ বাচ্চাটিকে নিয়ে এক পাহাড়ের উপর যায়।আর সেখান থেকে এটি বলে তাকে ফেলে দেয় যে তুই একটি বাজ পাখির বাচ্চা... নিজেকে চেন নাহলে মৃত্যুই তোর একমাত্র রাস্তা।

এরপর বাচ্চাটি একটু ভয় পেয়ে যায়।আর চোখ বন্ধ করে ভাবে।এখনতো আমাকে মরতেই হবে।কিন্তু সে এটা বুঝতে পারে যে নিচে পড়তে আরো অনেক সময় লাগবে।কারন মাটি অনেক নিচে আছে।তায় সে একবার চেষ্টা করে নিজের ডানাটা একবার মেলে ধরে আর সেটা নাড়াতে থাকে।আর যেহেতু সে একটি বাজ পাখির বাচ্চা ছিল তায় সামান্য চেষ্টাতে সে হাওয়াতে উড়তে চেষ্টা করে।আর নিজেকে এমন ভাবে উড়তে দেখে সে খুশি হয়ে যায় আর মহাত্মা কে এসে বলে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।আপনি আমাকে আমার আসল পরিচয়টা দিয়েছেন।মহাত্মা হাসে আর নিজের আশ্রমে ফিরে আসে আর নিজের লিপিগ্রন্থে লেখে যে আমরাও প্রতিটি মানুষ ঐ বাজ পাখির বাচ্চার মত সে যে জানেই না যে আমরা আসলে কি আর আমরা চাইলে কি কি করতে পারি।আমাদের চারপাশের লোকজন, মিডিয়া, খারাপ বন্ধু সবাই আমাদের বলেই গিয়েছে যে আমরা ঐ মুরগির বাচ্চার মত।আর তায় আমাদের সারাটি জীবন ভয় এর সাথে আমরা কাটিয়ে দেই।
কিন্তু যখন আমরা আমাদের কঠিন সময়ে নিজেকে চেনার চেষ্টা করব আর নিজেকে চিনতে পারব তখন এ পৃথিবীতে আর কিছুই থাকবে না যা আমরা পেতে পারব না।আর এই গল্প থেকে আমি আরো একটি জিনিস শিখেছি,  আমি শিখেছি মানুষ যখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থাকে তার করা প্রতিটি কাজ তাকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

আর আজকের দিনে করোনা ও লকডাউন এর মাঝে বড় একটি সুজগ আছে আমাদের কাছে নিজেকে বেটার তৈরি করার জন্য।তায় এ সময়ে বসে না থেকে আমার ব্লকে নিয়মিত পোষ্ট পড়ে নিজেকে মোটিভেট করতে ও আমাকে উতসাহ দিতে পারেন।😍😍

তো ভালো থাকেন সবাই।কথা হবে আগামি পোষ্টে।
ধন্যবাদ সবাইকে।

💖আব্দুর রাকিব💖

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ